ব্যাংকিং অ্যালমানাকের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে অর্থ উপদেষ্টা

তথ্য বিভ্রাট নিয়ে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়

সঠিক তথ্য-উপাত্ত ছাড়া কোনো কিছুর মূল্যায়ন হয় না। বিগত ১৫ বছরের তথ্য বিভ্রাট নিয়ে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

সঠিক তথ্য-উপাত্ত ছাড়া কোনো কিছুর মূল্যায়ন হয় না। বিগত ১৫ বছরের তথ্য বিভ্রাট নিয়ে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তথ্যভিত্তিক গবেষণাগ্রন্থ ‘ব্যাংকিং অ্যালমানাক’-এর ষষ্ঠ সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‌ব্যাংকিং অ্যালমানাকের বোর্ড অব এডিটরসের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার, এবিবির সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আমিন, গ্রন্থটির নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ জিয়া উদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য রাখেন ব্যাংকিং অ্যালমানাকের প্রকল্প পরিচালক আবদার রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘‌বিবিএসকে বলা হয়েছে তথ্য যা আছে তাই যেন প্রকাশ করা হয়। এখানে কারচুপির কোনো ব্যাপার নেই। আগে মূল্যস্ফীতি আট বা নয়ে আটকে রাখা হতো। সঠিক তথ্য-উপাত্ত ছাড়া কোনো কিছুর মূল্যায়ন হয় না। বিগত ১৫ বছরের তথ্য বিভ্রাট নিয়ে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। মূল্যস্ফীতি, জিডিপি নিয়ে তথ্য বিভ্রাটের পেছনে অনিচ্ছাকৃত কিছুটা ভুল রয়েছে আবার নীতি নির্ধারকরাও তথ্য লুকানোর চেষ্টা করেন।

আমরা কোনো পাওয়ার দেখাতে আসিনি, একটা দায়িত্ব নিয়ে এসেছি—এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘‌বিগত ১৫ বছরের তথ্য নিয়ে নানা বিভ্রাট রয়েছে। তথ্য লুকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা এগুলো পরিবর্তন ও সংস্কারের চেষ্টা করছি। কারণ দাতা সংস্থাগুলো আমাদের কাছে নানা

প্রশ্ন করেন, তারা বোঝাতে চান আগেই কম ছিল ইত্যাদি। এ নিয়ে আমরা তাদের বোঝাচ্ছি আগের তথ্য লুকানো ছিল, আমরা সঠিকটা উপস্থাপন করছি।’

এ মুহূর্তে বাংলাদেশের অর্থনীতির সামনে পাঁচটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘‌একটি হচ্ছে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য তৈরি করা। তথ্যের সত্যতা, পেশাদারত্ব এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সন্তোষজনক পর্যায়ে অগ্রগতি হচ্ছে। আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা, সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য অত্যন্ত ভঙ্গুর অবস্থা থেকে স্বল্প সময়ের মধ্যে ঘুরে দাঁড় করানো হয়েছে। এছাড়া অর্থনীতির চাকা ঘুরতে হবে, অর্থনীতির প্রক্রিয়াগুলো বেগবান করতে হবে। ‌এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এখানে ব্যক্তি খাত থেকে শুরু করে সবার সম্পৃক্ততা রয়েছে।

মূল্যস্ফীতি মোকাবেলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‌গত ১৫ বছরের শাসনকালে আমাদের অলিগার্কিক মার্কেট পাওয়ার অন্য স্তরে চলে গিয়েছিল। এর মধ্যে প্রথম দুইটায় সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়েছে। তথ্য ও পেশাদারত্ব আগের থেকে উন্নত হচ্ছে, সামনে আরো এগোবে। অন্য যে বিষয়গুলো আছে তার মধ্যে অর্থনীতির চাকা ঘোরানোর যে বিষয়টা, সেটা অর্থ মন্ত্রণালয়ের একক বিষয় নয়, সার্বিক দায়িত্ব। অর্থনীতির চাকাকে আরো বেগবান করা নিয়ে এক ধরনের প্রশ্ন আছে। এখানে ইচ্ছার ঘাটতি নয়, সক্ষমতার সঙ্গে ব্যক্তি খাতকে আরো কীভাবে সম্পৃক্ত করা যায় এবং সবাইকে আরো আস্থার জায়গায় আনতে হবে।’

ড. হোসেন জিল্লুর বলেন, ‘‌আমরা জানি বিনিয়োগ থমকে আছে। সেটা শুধু অর্থনীতি পরিচালনার বিষয় নয়। সামগ্রিকভাবে আইন-শৃঙ্খলা থেকে শুরু করে অনেক কিছু আছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা একটু কঠিন অবস্থার মধ্যে আছে। চেষ্টা কিন্তু চলছে তবে সফলতা ধীরে আসছে। আরেকটা হচ্ছে অলিগার্কিক মার্কেট পাওয়ার বাস্তবতা হিসেবে বিরাজ করছে। এটাকে মোকাবেলা করার চ্যালেঞ্জ সামনে রয়ে গেছে। ২০২৫ সালে এখানেও আমাদের কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব হবে।’

আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা কামনা করে অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার জানান, ‌এরই মধ্যে বিভিন্ন বোর্ডে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

আরও